ইসলামের ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁদের ঈমান, ত্যাগ ও কুরবানির কারণেই অনেকে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন। এই প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে সেই সমস্ত মহীয়সী নারী সাহাবীদের নিয়ে, যাঁদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
মহিলা সাহাবীরা ইসলামে কেন এত সম্মানিত?
মহিলা সাহাবীরা ছিলেন রাসূল (সা.)-এর ঘনিষ্ঠ অনুসারী। তাঁরা দাওয়াত, হিজরত, যুদ্ধ ও ইবাদতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের বিশ্বাস ও ন্যায়পরায়ণতা ছিল ঈর্ষণীয়। অনেক মহিলা সাহাবী দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন, যা তাঁদের ঈমান ও আমলের প্রমাণ।
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম
নিম্নে উল্লেখযোগ্য কিছু মহিলা সাহাবীদের নাম দেওয়া হলো, যাঁদের রাসূলুল্লাহ (সা.) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন:
১. খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)
প্রথম মুসলিম নারী এবং রাসূল (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। তাঁর জন্য আল্লাহ জান্নাতে একটি মুক্তার প্রাসাদ প্রস্তুত রেখেছেন বলে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
২. ফাতিমা (রা.)
রাসূল (সা.)-এর কন্যা এবং হাসান ও হুসাইন (রা.) এর মা। তাঁকে “জান্নাতের নারীদের নেত্রী” বলা হয়েছে।
৩. আসিয়া বিনতে মুজাহিম (ফিরআউনের স্ত্রী)
যদিও তিনি সাহাবী নন, তবে রাসূল (সা.) তাঁকে জান্নাতের চার মহীয়সী নারীর একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৪. মারইয়া কিবতিয়া (রা.)
রাসূল (সা.) এর স্ত্রী এবং ইব্রাহিম (আ.) এর মা। তাঁর চরিত্র ছিল পবিত্র ও নিষ্ঠাবান।
৫. সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.)
ইসলামের প্রথম শহীদ নারী। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে শহীদের মর্যাদায় জান্নাত দান করেছেন।
৬. উম্মে সালামা (রা.)
রাসূল (সা.) এর স্ত্রী এবং একজন জ্ঞানী ও বুদ্ধিমতী নারী সাহাবী। তাঁর দোয়া ও ধৈর্যের কারণে আল্লাহ তাঁকে উত্তম পুরস্কার দান করেছেন।
৭. আয়েশা (রা.)
উম্মুল মু’মিনীন এবং বিশাল পরিমাণ হাদীস বর্ণনাকারী। তিনি ছিলেন বিদ্বান, ধার্মিক ও রাসূলের প্রিয়তমা স্ত্রী।
জান্নাতপ্রাপ্ত নারীদের গুণাবলি
এই নারীরা নিম্নোক্ত গুণে গুণান্বিত ছিলেন:
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগ
ঈমানের দৃঢ়তা
রাসূল (সা.) এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য
ইবাদতে অটলতা
ধৈর্য ও সহনশীলতা
উপসংহার
এই মহীয়সী নারী সাহাবীরা আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, নারীরাও ঈমান, আমল ও নিষ্ঠার মাধ্যমে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা পেতে পারেন। আমাদের উচিত তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করা।