গরমকালে ঘামাচি হওয়া একটি খুব সাধারণ এবং বিরক্তিকর সমস্যা। এটি মূলত অতিরিক্ত ঘামের ফলে ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ি আকারে দেখা দেয়। তীব্র চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি এবং অস্বস্তির কারণে ঘামাচি ছোট-বড় সবার মধ্যেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই জেনে নিন ঘামাচি হলে কী করণীয় এবং কিভাবে আপনি এটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করতে পারেন।
ঘামাচির কারণ কী?
ঘামাচি হওয়ার পেছনে কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে:
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং ঘাম জমে থাকা
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া
ঘাম না শুকানো অবস্থায় কাপড় পরে থাকা
কৃত্রিম ও আঁটসাঁট পোশাক পরা
ত্বকে ধুলাবালি জমে থাকা
ঘামাচি প্রতিরোধে ঘরোয়া উপায়
ঘামাচি কমাতে ঘরোয়া কিছু উপায় অত্যন্ত কার্যকর:
চন্দন গুঁড়া ও গোলাপজল: ঘামাচির জায়গায় চন্দন গুঁড়া ও গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট লাগান। এটি ঠান্ডা অনুভব দেয় এবং প্রদাহ কমায়।
বেসন ও দই: বেসন ও টক দই মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ঘামাচি দ্রুত ভালো হয়।
তুলসি পাতা: তুলসি পাতার রস ঘামাচির ওপর লাগালে জীবাণু ধ্বংস হয় এবং চুলকানি কমে।
আলোভেরা জেল: প্রাকৃতিক আলোভেরা জেল ব্যবহার করলে চুলকানি ও জ্বালাভাব দূর হয়।
কোন ধরণের পোশাক পরবেন?
সঠিক পোশাক পরার মাধ্যমে ঘামাচির সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো যায়:
ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতি পোশাক পরুন
নাইলন বা সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলুন
ঘাম হলে দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন ও পরিষ্কার পোশাক পরুন
শিশুদের ঘামাচি হলে করণীয়
শিশুদের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন দরকার:
শিশুদের হালকা ঠান্ডা পানিতে গোসল করান দিনে অন্তত ২ বার
বেবি পাউডার ব্যবহার করুন
পরিষ্কার ও নরম সুতি জামা পরান
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন?
ঘামাচি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, ঘা বা ফোঁড়ার মতো হয়ে যায়, বা ত্বকে ইনফেকশন দেখা দেয় – সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
শেষ কথা: ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তা সহজেই প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা সম্ভব। ঘরোয়া উপায়, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় আপনি থাকবেন ঘামাচিমুক্ত। আরও স্বাস্থ্য টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন 👉 usdate.blogspot.com